বাংলা
কে নিরঞ্জন এলি? নিরঞ্জন কে? কোন্ পরিস্থিতিতে গল্পকথক নিরঞ্জনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন?
ছোটোগল্পকার প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'তেলেনাপোতা আবিষ্কার' নামক ছোটোগল্প থেকে অংশটি গৃহীত এবং অংশটির বক্তা যামিনীর মা।নিরঞ্জন এই গল্পের একটি উল্লেখযোগ্য এবং অদৃশ্য চরিত্র। গল্পে তার নাম ও বিবরণ রয়েছে কিন্তু উপস্থিতি নেই। নিরঞ্জন তেলেনাপোতা গ্রামের যামিনীর মায়ের দূরসম্পর্কীয় বোনপো। তার সঙ্গে যামিনীর মা যামিনীর বিয়ের সম্বন্ধ করেছিল, কিন্তু নিরঞ্জন যামিনীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও আর ফিরে…
প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ গল্পটি আসলে আত্ম-আবিষ্কারের গল্প-গল্পের কাহিনির নিরিখে আলোচনা করো
বাংলা ছোটোগল্পের ইতিহাসে প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'তেলেনাপোতা আবিষ্কার' ছোটোগল্পটি এক অভিনব সৃষ্টি। গল্পটি তেলেনাপোতা নামক গ্রামে কথক ও তার দুই বন্ধুর ভ্রমণকাহিনি এবং সেখানকার পরিবেশ পরিস্থিতি ও অসহায় মানুষজনের কথা নিয়ে রচিত। গল্পটির মধ্যে একদিকে যেমন সমকালীন পিছিয়ে পড়া হতদরিদ্র গ্রাম বাংলার কথা তুলে ধরা হয়েছে, ঠিক তেমনই শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির পলায়নি মনোবৃত্তি, প্রতারণার প্রসঙ্গ ফুটে…
মনে হবে বোবা জঙ্গল থেকে কে যেন অমানুষিক এক কান্না নিংড়ে নিংড়ে বার করছে। মন্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো
মৎস্য শিকারে আগ্রহী গল্পের নায়ক ও তার দুই বন্ধু বাসে চেপে ধীর-মন্থর-দোদুল্যমান গতিতে কোনোরকমে তিনজোড়া পা ও তিনটি মাথা নিয়ে পরিচিত পৃথিবী ছাড়িয়ে অনুভূতিহীন কুয়াশাময় তেলেনাপোতায় এসে পড়ে। সামনের ঘন জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে গল্পকথকের মনে হয়, একটি কাদা জলের নালা কে যেন কেটে দিয়েছে।সেই নালার মতো রেখাও কিছুটা দূরে গিয়ে দু-ধারের বাঁশঝাড় আর বড়ো বড়ো…
তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ গল্পের কথক ও তার দুই সঙ্গীর তেলেনাপোতা গ্রামে যাওয়ার কারণ কী? একে লেখক আবিষ্কার বলেছেন কেন
প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'তেলেনাপোতা আবিষ্কার' গল্পে গল্পকথক ও তার দুই বন্ধু শহরের কোলাহল, দৈনন্দিন কাজকর্মের একঘেয়েমি দূর করতে দু-দিনের ছুটি কাটাতে এবং ছিপ দিয়ে মাছ ধরার নেশায় তেলেনাপোতা গ্রামে গিয়েছিল।লেখক গল্পের নামকরণে 'আবিষ্কার' শব্দটি কৌশলে জুড়ে দিয়েছেন। 'আবিষ্কার' শব্দের অর্থ নতুন কিছুকে খুঁজে প্রকাশ করা অর্থাৎ অজানা বিষয়কে খুঁজে লোকচক্ষুর সামনে আনা। গল্পে বর্ণিত তেলেনাপোতা গ্রামে-কথক…
আপনার আসল উদ্দেশ্য আপনি নিশ্চয় বিস্মৃত হবেন না। আসল উদ্দেশ্য কোন্টি? সেই উদ্দেশ্যসাধনে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কী করলেন?
'তেলেনাপোতা আবিষ্কার' গল্পে আসল উদ্দেশ্য বলতে গল্পকথক ও তার দুই বন্ধুর ছুটি কাটানো এবং মৎস্য শিকার করার কথা বলা হয়েছে।গল্পকথকের নেশা মাছ ধরা আর এই উদ্দেশ্যে মূলত সে তেলেনাপোতা গ্রামে আসে। গল্পকথক তাই বাস থেকে নেমে গোরুরগাড়ি চেপে অন্ধকারাচ্ছন্ন জঙ্গলাকীর্ণ নালা-নর্দমা পেরিয়ে কষ্ট সহ্য করে তেলেনাপোতা গ্রামে গিয়ে পৌঁছায়। পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে…
বসে আছেন কেন? টান দিন। বক্তব্যটির মধ্য দিয়ে ব্যক্তির উপলব্ধির স্বরূপ বর্ণনা করো
প্রেমেন্দ্র মিত্র বিরচিত 'তেলেনাপোতা আবিষ্কার' গল্পে কলসি করে জল নিয়ে যাওয়ার সময় যামিনী মৎস্যশিকারি ব্যক্তির উদ্দেশে এরূপ উক্তি করে।তেলেনাপোতা নামক গ্রামের একটি শ্যাওলা ঢাকা ভাঙা ঘাটের ধারে বসে গুঁড়ি-পানায় ঢাকা সবুজ জলের মধ্যে বঁড়শি ডুবিয়ে যখন দীর্ঘ সময় বসে থাকবেন-তখন মাছ নয়; একটি মাছরাঙা পাখি ক্ষণে ক্ষণে আপনাকে যেন উপহাস করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বে।সার্থক শিকারের…
নীচের জলা থেকে একটা ক্রুর কুণ্ডলিত জলীয় অভিশাপ ধীরে ধীরে অদৃশ্য ফণা তুলে উঠে আসছে। বক্তব্যটির মধ্যে যে ব্যঞ্জনা লুকিয়ে আছে তা গল্প অবলম্বনে আলোচনা করো
একদিকে সমাজের নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষজনের ছবি এবং অপরদিকে তথাকথিত সভ্যতার আড়ালে থেকে যাওয়া গ্রামবাংলার নিঃস্ব রূপটিকে প্রেমেন্দ্র মিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর "তেলেনাপোতা আবিষ্কার” গল্পে। তেলেনাপোতা একটি গণ্ডগ্রাম। সমস্ত গতি যেন রুদ্ধ হয়ে গেছে এই গ্রামে। যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম বাস-সেই বাসও তেলেনাপোতার মতো গণ্ডগ্রামে অনিয়মিত। বাসে চেপে কথক যখন সেই গ্রামের পথে পৌঁছান-তখনই শুরু হয় প্রকৃতিতে আলো-আঁধারির…
ঘরে ঢুকে বুঝতে পারবেন বহু যুগ পরে মনুষ্যজাতির প্রতিনিধি হিসাবে আপনারাই সেখানে প্রথম পদার্পণ করেছেন। -ঘরটির বর্ণনা দাও
সভ্যতার ইতিহাসের পাতা ওলটালে দেখা যাবে তার ভিত্তি তৈরি হয়েছে গ্রামকে কেন্দ্র করে, কিন্তু সময় যত প্রবাহিত হয়েছে ততই তা সামনে এগিয়ে কেন্দ্রীভূত হয়েছে শহরের দিকে। গ্রাম পিছনে চলে গেছে নিঃশব্দে। এরকমই এক নিঃশব্দ গ্রামের ইতিহাস প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'তেলেনাপোতা আবিষ্কার' গল্পটি।তিন বন্ধু মিলে উপস্থিত তেলেনাপোতা নামক গ্রামে। চাঁদের আলোয় তাদের চোখে পড়ে একটি বড়ো পুকুরের…
তেলেনাপোতা আবিষ্কার কি শুধুই একটি ছোটোগল্প নাকি আধুনিকতার ছাঁচে ঢালা শকুন্তলা-কাহিনি?
বাংলা সাহিত্যধারায় কল্লোল যুগের সাহিত্য ব্যাপক পালাবদল - ঘটিয়েছিল। একদিকে নিত্যদিনের মানুষের জীবনের দিনপঞ্জি অন্যদিকে শ্রমজীবী, অন্ত্যজ শ্রেণির খেটে খাওয়া মানুষ ও তাদের দুঃখ যন্ত্রণার কথা, কল্লোল যুগের সাহিত্য সম্পর্কে পাঠককে ভাবতে বাধ্য করল। পরিবর্তনের মুখোশের আড়ালে থাকা বে-আবু রূপটিও তখন আভিজাত্যের পর্দা সরিয়ে এই সময়ের সাহিত্যে স্থান করে নিয়েছে। এই ধারার অন্যতম ঋত্বিক প্রেমেন্দ্র…
একবার ক্ষণিকের জন্য আবিষ্কৃত হয়ে তেলেনাপোতা আবার চিরন্তন রাত্রির অতলতায় নিমগ্ন হয়ে যাবে। কেন এ কথা বলা হয়েছে?
এক অখ্যাত গ্রাম তেলেনাপোতা যেখানে যাওয়ার উদ্দেশে গল্পের নায়ক তার দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতা থেকে রওনা দেন। এই তেলেনাপোতা গ্রাম আসলে কল্পনামাত্র। বাস্তবে এই গ্রামের অস্তিত্ব নেই। আর কোনোদিনই তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। বাংলার নিঃস্ব গ্রাম মাত্রেই তেলেনাপোতা গ্রাম। শহুরে জীবনের একমুখীনতা থেকে দূরে গিয়ে গ্রাম্যজীবনের স্বাদ গ্রহণের জন্য তিন বন্ধুর ওইরূপ গ্রামের…




