দীর্ঘ পথের দুঃসহ ক্লান্তি এবং তেলেনাপোতা পৌঁছেও সেখানকার অন্ধকার, মশার উৎপাত, চরম আকণ্ঠ দারিদ্র্য, পানাপুকুরের পচা গন্ধ আগন্তুকদের তীব্র বাস্তবের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। এইরূপ তেলেনাপোতাকে আবিষ্কারের জন্য প্রয়োজন রসিক, মানবপ্রেমিক, মানবতাবোধে পূর্ণ অনুভূতিশীল হৃদয়। ক্ষণিকের জন্য হলেও গল্পের নায়কের মধ্যে এই গুণগুলি প্রকাশ পেয়েছে এবং তেলেনাপাতা নির্বিশেষরূপে বাংলার পল্লির রিক্ত রূপটিকে অনাবৃত করেছে।
কিন্তু বাস্তব এত সহজ নয়। শহরে ফিরে এসে, দীর্ঘকাল ম্যালেরিয়া ভোগ করে সেরে ওঠার পরে ‘তেলেনাপোতা’ আর তাই সত্য থাকবে না। তার পথ কোথায় হারিয়ে যাবে, সবই স্বপ্নের মতো মনে হবে। তাই তেলেনাপোতা গ্রামের কথা ক্ষণিকের তরে গল্পকথকের মনে পড়লেও তা স্মৃতির অতলে তলিয়ে যাবে। মনে হবে যেন তেলেনাপোতা বলে কোথাও কিছু সত্যি নেই।









