বাংলাদেশের শিল্পের অনগ্রসরতার পাঁচটি কারণ লেখ। অথবা, শিল্পে বাংলাদেশের অনগ্রসরতার কারণগুলো কী কী?
চরট বাংলাদেশ শিল্পে অনুন্নত। পর্যাপ্ত মনুষ্য সম্পদ ও প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও এদেশে শিল্পায়ন হয় নি। বিপুল জনসংখ্যা অধ্যুষিত বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ বাজারও শিল্পের অনুকূল। তথাপি বিভিন্ন কারণে এদেশের শিল্প পিছনে রয়েছে। বাংলাদেশের শিল্পে অনগ্রসরতার ৫টি কারণ নিম্নে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:-
বাংলাদেশের মূলধনের অভাব
বাংলাদেশের মূলধনের অভাব অত্যন্ত প্রকট। বৃহদায়তন শিল্প গড়ে উঠার মত মূলধনের সংস্থান এখানে নেই। পর্যাপ্ত মূলধন ছাড়া শিল্প গড়ে উঠতে পারে না। দেশের দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত জনসাধারণ নিজেদের জীবনযাত্রা নির্বাহ করে সঞ্চয় করতে পারে না। এ পরিস্থিতিতে দেশে স্বাভাবিক শিল্প গড়ে ওঠে না।
বাংলাদেশের খনিজ সম্পদের অভাব
বাংলাদেশ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ নয়। লোহা, কয়লা, পেট্রোলিয়াম প্রভৃতি মূল্যবান খনিজ সম্পদের অভাবে শিল্প স্থাপনে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। এ ছাড়া তুলা, সিল্ক, রবার প্রভৃতিও তেমন নেই।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অভাব
বৈদেশিক মুদ্রার অভাব বাংলাদেশের শিল্পায়নের বড় রকমের অন্তরায়। আমাদের দেশে উপযুক্ত যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, শক্তিসম্পদ দক্ষ শ্রমিক সবই বিদেশ হতে আমদানি করতে হয়। কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রার অপর্যাপ্ততার কারণে এ দ্রব্যগুলো আমদানি করা সম্ভব হয় না। ফলে শিল্পোন্নয়ন পিছিয়ে পড়ছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা উত্তর অব্যবস্থা
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ঔপনিবেশিক ও পাকিস্তানি শাসনের অধীনে ছিল। স্বাধীনতার পর পাকিস্তান কর্তৃক পরিত্যক্ত কলকারখানাসমূহ অদক্ষ পরিচালকের হাতে ন্যস্ত করা হয়। পরিচালকের অভিজ্ঞতা না থাকায় এবং সুষ্ঠু শিল্পনীতির অভাবে শিল্পখাতের উন্নতি সাধিত হয় নি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
কোনো দেশের শিল্পায়নের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। স্বাধীনতার পর আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে অস্থির রাজনীতি বিরাজ করছে। ফলে তা শিল্পোন্নয়নে বাধার সৃষ্টি করছে।
পরিশেষে বলা যায় যে, উপরিউক্ত কারণসমূহ মূলত শিল্প স্থাপনের ও শিল্পোন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও নাগরিকদের সহযাগিতায় এগুলোর দ্রুত প্রতিকার করে শিল্পোন্নয়নের পথ সুগম করতে হবে।








