প্রশ্ন: “বিষাদ সিন্ধু” উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপে লিখ।
উত্তর:
ভূমিকা
বিষাদ সিন্ধু মীর মশাররফ হোসেনের রচিত এক বিশিষ্ট ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস। রচনাশৈলী হিসেবে এটি শোধুভাষায় রচিত এবং উপন্যাসটির কেন্দ্রবিন্দু কারবালার টোলেল ও ত্যাগ–বিষয়ক ঘটনাবলি। বাংলা সাহিত্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী রচনা হিসেবে বিবেচিত।
মূল কাহিনি
- উপন্যাসটির কেন্দ্রভূমি হিজরি ৬১। কাহিনির মূল চরিত্ররা হলেন হযরত হাসান ও হযরত হুসেইন — নবীজির নাতি (গ্র্যান্ডসন)। গল্পটি বিশেষ করে হুসেইন ও তাঁর স্বজাতীয়দের করুণ পরিণতি ও আত্মত্যাগকে সামনে আনে।
- রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাবলীর মধ্যে হুসেইনের অবস্থান ও তাঁর অনুগত সঙ্গীদের আকাঙ্ক্ষা, পরবর্তীতে যাজিদীয় শাসনপ্রণালীকে অস্বীকার করার দৃঢ়তা—এসব ঘটনার মধ্য দিয়েই উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহ এগোয়। লোকসমর্থন ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে হুসেইনের যাত্রা, তাঁর আশার দর্শন ও পরে সংঘটিত সংকট—সবই গ্রন্থে সংক্ষিপ্ত ও ব্যাকথ্যাত্মকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসের ন্যারেটিভে হুসেইন ও তাঁর অনুসারীদের ওপর ঘটে যাওয়া অবরুদ্ধতা, পানাহার থেকে বঞ্চিত করা, যুদ্ধভূমিতে সাহসী লড়াই ও পরিশেষে হুসেইনসহ বহু সহযাত্রীদের শহীদ হওয়ার ট্র্যাজেডি বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে। এরপর নারীদের দুর্দশা ও বন্দিত্ব—এই অংশগুলো উপন্যাসকে গভীর বিষাদময়তায় আবৃত করে।
উপসংহার
বিষাদ সিন্ধু শুধুমাত্র ইতিহাসবর্ণনা নয়; এটি ত্যাগ, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবীয় বিষাদের গভীর অন্বেষণ। মীর মশাররফ হোসেনের কাব্যাত্মক ও প্রায় কাব্যভাষার ন্যারেটিভ পাঠকে আবেগোপলব্ধ করে তোলে এবং পাঠকে ঐতিহাসিক ঘটনাটিকে হৃদয়ে বেঁধে রাখে। বাংলা সাহিত্যে এই উপন্যাসটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে।
পরীক্ষার খাতার জন্য টিপস
- শুরুতেই লেখক পরিচিতি ও রচনার প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে লিখুন।
- কাহিনীর মূল ঘটনা গুলো সময়ক্রমে সাজিয়ে লিখুন—ভূমিকা, সংঘর্ষ, পরিণতি।
- শেষে উপন্যাসের ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক গুরুত্ব সংক্ষেপে উপস্থাপন করুন।
- বাক্যগুলো পরিষ্কার ও পরিমিত রাখুন; পয়েন্টভিত্তিক লেখা প্রায়ই পরীক্ষায় ভালো পড়ে।








