ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আগমন

Published On: February 29, 2024
ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আগমন
ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আগমন – East India Company’s Entry into India, প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে ভারতবর্ষে ব্যবসা-বাণিজ্য করার জন্য ইংরেজগণ ১৬০০ সালে ২১৮ জন সদস্য নিয়ে লন্ডনে ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ নামে একটি বণিক সংঘ গঠন করে।
উক্ত সালের ৩১ ডিসেম্বর এ বণিক সংঘ “দি গভর্নর এন্ড কোম্পানি অব মার্চেন্টস অব লন্ডন ট্রেডিং ইন টু দি ইস্ট ইন্ডিয়া” নামে রানি এলিজাবেথের নিকট থেকে সনদ লাভ করে। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ১৬১৩ সালে এক ফরমানের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের অনুমতি প্রদান করেন।
বাংলার সুবেদার শাহজাদা সুজা ইংরেজ চিকিৎসক জিব্রাইল ব্রাউটনের চিকিৎসায় সন্তুষ্ট হয়ে মাত্র তিন হাজার টাকা করের বিনিময়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলায় বিনা শুল্কে বাণিজ্যের অধিকার প্রদান করেন। ১৬৯০ সালে সম্পাদিত একটি সন্ধি চুক্তি মোতাবেক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সমগ্র ভারতবর্ষে বার্ষিক তিন হাজার টাকার বিনিময়ে বিনা শুল্কে বাণিজ্য করার অধিকার ফিরে পায়।
এ সন্ধির ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি জব চার্নকের নেতৃত্বে ১৬৯০ সালের ২৪ আগস্ট সুতানটিতে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে। বাংলার সুবেদার শাহ্জাদা আযিমুদ্দিনের শাসনকালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬৯৬-৯৮ সালে সুতানটি, কলিকাতা ও গোবিন্দপুর-এ তিনটি গ্রামের জমিদারি সনদ লাভ করে।
জব চার্নকের প্রচেষ্টায় এখানে কলিকাতা বন্দর ও শহরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এবং অতি দ্রুত তা সমৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়। ১৬৯৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কলিকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চিকিৎসক সার্জেন্ট উইলিয়াম হ্যামিল্টন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত দিল্লির সম্রাট ফররুখ শিয়রকে সুস্থ করে তুললে ১৭১৭ সালে সম্রাট এক ফরমান জারি করে সমগ্র ভারতবর্ষে বিনা শুল্কে বাণিজ্য করাসহ অনেক সুযোগ-সুবিধা ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে প্রদান করেন।
চতুর ইংরেজরা এ ফরমানবলে প্রাপ্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার করে কলিকাতায় দুর্ভেদ্য দুর্গ তৈরি করেন এবং বাংলার শাসকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেন। নবাব আলীবর্দী খানের শাসনামলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কয়েকবার অবাধ্যতা প্রকাশ করে।

Leave a Comment