কর্তৃত্বমূলক স্বৈরতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা
প্রথমত, এইরূপ রাজনৈতিক ব্যবস্থায় একজন ব্যক্তি বা কিছুসংখ্যক বাক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে। দ্বিতীয়ত, এই ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আনুগত্য বা সম্মতি থাকে না বলে শাসকবর্গ বলপ্রয়োগের মাধ্যমে জনসম্মতি বা জনগণের আনুগত্য আদায় করে নেয়।
তৃতীয়ত, কর্তৃত্বমূলক শাসনব্যবস্থায় কুমোচ্চ স্তর (hierarchical) অনুযায়ী কাঠামোটি সাজানো হয়। এই ব্যবস্থার শীর্ষে একজন বা কিছু শাসকের অবস্থান এবং অন্যান্যদের তাঁদের প্রতি আনুগত্যশীল থাকতে হয়।
চতুর্থত, কর্তৃত্বমূলক শাসনব্যবস্থায় জনগণ কোনোরূপ রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ ভোগ করতে পারে না। কারণ এই ব্যবস্থায় শাসকবর্গ কর্তৃক রাজনৈতিক দলগঠন ও নির্বাচনি ব্যবস্থার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করা হয়।
পঞ্চমত, কর্তৃত্বমূলক শাসনব্যবস্থায় একাধিক রাজনৈতিক দলের অস্তিত্বকে মেনে নেওয়া হয় না। এখানে একটিমাত্র রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকে। এই দলের কাজ হল জনগণ যাতে নেতা বা সরকারের প্রতি আনুগত্য জ্ঞাপন করে তার ব্যবস্থা করা। এই ব্যবস্থায় সকল রকমের সরকার-বিরোধী কাজকর্মকে কঠোরভাবে দমন করা হয়।
ষষ্ঠত, কর্তৃত্বমূলক শাসনব্যবস্থায় ব্যক্তিস্বাধীনতা বলে কিছু থাকে না। এই ব্যবস্থায় নাগরিক অধিকারকে সীমিত করে দেওয়া হয় এবং বিচারব্যবস্থার ওপর নানাপ্রকার বাধা-নিষেধ আরোপ করা হয়।
সপ্তমত, এইরূপ ব্যবস্থায় কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এখানে জাতিগত বিষয় ও জাতীয়তাবাদকে খানিকটা গুরুত্ব দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় সংহতিকে ধরে রাখার জন্য।
অষ্টমত, কর্তৃত্বমূলক শাসনব্যবস্থায় সামান্য সংখ্যক বাছাই করা লোকেদের (social elites) স্বার্থ রক্ষা করা হয়। এর ফলে এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের স্বার্থ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
পরিশেষে, যেহেতু এই ব্যবস্থা শাসকের নির্দেশ অনুসারে পরিচালিত হয় সেহেতু সাধারণ মানুষের নৈতিক, বৌদ্ধিক ও চেতনা বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং এর ফলে তাদের কোনো উন্নতি ঘটে না।







