রাষ্ট্রবিজ্ঞান
রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে পার্থক্য কি | রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা কর
রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই আমাদের বুঝতে হবে যে, এই দুটি ধারণা একে অপরের সাথে সম্পর্কিত হলেও তাদের মধ্যে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকগণ রাষ্ট্র ও সমাজকে প্রায় একই মনে করলেও আধুনিক যুগে এই দুটি ধারণাকে আলাদা করে দেখা হয়। এই আর্টিকেলে আমরা রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যকার…
নাগরিকতা বলতে কী বোঝ
নাগরিকতাব্যুৎপত্তিগত অর্থে নগরে বসবাসকারী ব্যক্তিদের নাগরিক বলে। আবার আক্ষরিক অর্থেও নগরের অধিবাসীকে বলা হয় নাগরিক। এই দুটি অর্থ থেকে বোঝা যায় যে, যারা শুধুমাত্র নগরে বসবাস করে তারাই নাগরিক। কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এই অর্থ যথাযথ নয়। বিভিন্ন সময়ের দিক থেকে 'নাগরিকতা' শব্দটি কীভাবে গৃহীত হয়েছে তা দেখা যেতে পারে।[1] গ্রিক ও রোমান ধারণা: প্রাচীন গ্রিক চিন্তাধারা…
নাগরিক ও বিদেশির মধ্যে পার্থক্যসমূহ আলোচনা করো
নাগরিক ও বিদেশির মধ্যে পার্থক্যসমূহসাধারণত, একটি দেশের জনগণকে দু-ভাগে ভাগ করা হয়, যথা-[1] নাগরিক এবং [2] বিদেশি। নাগরিক বলতে তাকেই বোঝায় যে রাষ্ট্রে বসবাস করে এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের প্রতি যে স্বাভাবিক আনুগত্য প্রদর্শন করে এবং রাষ্ট্র তাকে ব্যক্তিত্ববিকাশের উপযোগী সমস্ত অধিকার প্রদান করে। একইভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও তার সার্বিক শিক্ষা, বুদ্ধিবিবেচনা, সক্রিয় সচেতনতা প্রভৃতি দিয়ে সামাজিক মঙ্গলসাধনের…
সুনাগরিক বলতে কী বোঝ? একজন সুনাগরিকের গুণাবলি আলোচনা করো
সুনাগরিকএকটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের উৎকর্ষ ও অগ্রগতি নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের নাগরিকদের বিচারবুদ্ধি ও সচেতনতার ওপর। জনমতের ওপর নির্ভর করেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নীতি ও কার্যক্রম স্থির হয়। এই কারণে একটি ভালো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দরকার উন্নত চেতনাসম্পন্ন নাগরিক, শৃঙ্খলাপূর্ণ মতামত, সদাজাগ্রত জনমত। যখন কোনো নাগরিকের ক্ষেত্রে এইসব গুণ দেখা যায় তখন তাকে বলা হয় সুনাগরিক।ল্যাস্কির অভিমতএকজন সুনাগরিকের…
রোমান নাগরিক তত্ত্বটির বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো
রোমান নাগরিক তত্ত্বটির বৈশিষ্ট্যসমূহরোমান রাষ্ট্রচিন্তায় নাগরিকতার ধারণাটি বা নাগরিকতত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এই ধারণায় অভিজাততান্ত্রিকতার বিষয়টিকে সরিয়ে এনে সাধারণের জন্য নাগরিকতার বিষয়টি চিন্তা করা হয়। অর্থাৎ, রোমানরাই প্রথম নাগরিকতার ধারণায় অভিজাতদের প্রাধান্য মেনে নেননি, তাঁরা সাধারণদের প্রাধান্য দিয়েছেন; ফলে রোমান নাগরিকতার ধারণাটি হয়ে উঠেছে সর্বজনীন। পলিবিয়াস, সিসেরো প্রমুখের রচনায় রোমান নাগরিকতার ধারণাটির পরিপূর্ণ বিকাশ লক্ষ…
জেন্ডার’ সম্পর্কে একটি টীকা লেখো
জেন্ডার'জেন্ডার' (Gneder) শব্দটির বাংলা অর্থ করা হয় 'লিজা'। যদিও 'লিঙ্গ' এবং জেন্ডারের মধ্যে প্রকৃতিগত যথেই পার্থক্য রয়েছে। কারণ 'জেন্ডার' শব্দটির ব্যাবহারিক তাৎপর্য ও 'স্লিল শব্দটির ব্যাবহারিক তাৎপর্য এক নয়। 'জেন্ডার' বলতে পৌরুষ বা নারীত্বের ধারণাকে বোঝালেও সমাজ ও কাল নির্বিশেষে এর কোনো একটি নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড পাওয়া যায় না। মারিয়া মিস বলেছেন যে, 'পৌরুষ' বা 'নারীত্বের' ধারণাটির…
লিঙ্গ’ ও ‘জেন্ডার’-এর ধারণার পার্থক্যসমূহ উল্লেখ করো
লিঙ্গ' ও 'জেন্ডার' এর ধারণার পার্থক্যসমূহঅনেকের ধারণা 'লিঙ্গ' ও 'জেন্ডার' সমার্থক। কিন্তু তা নয়, উভয়ের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান। এই পার্থক্যগুলি হল-প্রথমত, 'লিঙ্গ' বা 'সেক্স' বলতে কোনো পুরুষ বা কোনো নারীর জৈবিক অবস্থাকে বুঝিয়ে থাকে। অপরদিকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে যে বৈষম্যমূলক সম্পর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে তা 'জেন্ডার' নামে পরিচিত।দ্বিতীয়ত, লিজা হল 'একটি…
রাজনীতির ক্ষেত্রে নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গিটি ব্যাখ্যা করো
রাজনীতির ক্ষেত্রে নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গিনারীবাদের প্রবক্তাগণ একটি সম্পূর্ণ আলাদা দৃষ্টিকোণ থেকে রাজনীতিকে বিচারবিশ্লেষণ করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে পূর্বে প্রচলিত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোচনার ক্ষেত্রে একটা পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। কোনো কোনো রাষ্ট্রতাত্ত্বিক প্রচলিত তত্ত্বগুলিতে নানা বিচ্যুতি ও বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে নতুন তত্ত্ব নির্মাণের ক্ষেত্রে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তাঁদের দৃষ্টিতে ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, অধিকার, বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রভৃতিকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য…
নারীবাদী আন্দোলনের বিভিন্ন ধারা বিশ্লেষণ করো
নারীবাদী আন্দোলনের বিভিন্ন ধারাবিংশ শতকের সত্তরের দশকে 'নারীবাদ' লিঙ্গ-বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ হিসেব গড়ে উঠেছে। যদিও অষ্টাদশ শতকে পুরুষের সঙ্গে নারীর সমানাধিকারকে কেন্দ্র করে নারীবাদী চিন্তাচেতনার উদ্ভব ঘটে। বিংশ শতকের সত্তরের দশক থেকে সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে স্বতন্ত্র মহিলা সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন নারীবাদী তাত্ত্বিক প্রধানত এই সময় থেকে অসম জেন্ডার সম্পর্কগুলির…
লিঙ্গ-রাজনীতির বিভিন্ন দিক আলোচনা করো
লিঙ্গ-রাজনীতির বিভিন্ন দিকআক্ষরিক অর্থে 'লিঙ্গ-রাজনীতি' হল লিঙ্গা-সম্পর্কিত বা লিঙ্গ-কেন্দ্রিক রাজনীতি। কিন্তু বাস্তবে লিঙ্গ- রাজনীতি হল পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় 'নারীকেন্দ্রিক-রাজনীতি'। কারণ লিঙ্গ-রাজনীতির প্রধান বিষয় হল-পুরুষের অধীনতা থেকে নারীজাতিকে মুক্ত করা ও তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে লিঙ্গা- রাজনীতি নারীজাতিকে সকল অধিকার ও মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করতে, নারীর সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে এবং সার্বিক ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন প্রভৃতির জন্য সক্রিয়…




