লিঙ্গ’ ও ‘জেন্ডার’ এর ধারণার পার্থক্যসমূহ
প্রথমত, ‘লিঙ্গ’ বা ‘সেক্স’ বলতে কোনো পুরুষ বা কোনো নারীর জৈবিক অবস্থাকে বুঝিয়ে থাকে। অপরদিকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে যে বৈষম্যমূলক সম্পর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে তা ‘জেন্ডার’ নামে পরিচিত।
দ্বিতীয়ত, লিজা হল ‘একটি বাস্তব ঘটনা’-এর কারণ হল একজন পুরুষ বা একজন নারীর জন্মানোর সঙ্গে সঙ্গেল এটি চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হয়। এই বাস্তব বিষয়টিই সংশ্লিষ্ট নারী বা পুরুষ বহন করে বেড়ায়। অপরদিকে ‘জেন্ডার’ বলতে বোঝায় একটি সামাজিক গঠনকে। কারণ বৈষম্যভিত্তিক সমাজব্যবস্থায় একটি সামাজিক গঠন হল ‘নরীত্ব’ ও ‘পুরুষত্ব’-এর মধ্যে বিভাজন।
তৃতীয়ত, নারী-পুরুষের মধ্যে যে শারীরিক ও মানসিক গঠন বিদ্যমান তাও লিঙ্গ ও জেন্ডার নির্ণয়ের মধ্যে পার্থক্য করে থাকে। দৈহিক গঠন, দৈহিক ক্ষমতা, দৈহিক ব্রহ্মতা ও কোমলতা প্রভৃতি ‘লিঙ্গগত’ পরিচয় বহন করে। অপরদিকে, সামাজিক নানা বিভেদ ও বাধানিষেধ, আচরণ, সংস্কৃতি ও মানসিক বিষয়গুলি ‘জেন্ডারগত’ পরিচয় বহন করে।
চতুর্থত, লিঙ্গের ক্ষেত্রে আত্মিক ও ভাষাগত মাত্রা রয়েছে। কিন্তু জেন্ডারের ক্ষেত্রে এই দুই মাত্রা ছাড়াও স্থানিক মাত্রাও রয়েছে।
পঞ্চমত, ‘লিঙ্গ’ হল এমন একটি বিষয় যার সমাজ, কাল নির্বিশেষে একটি নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড বিদ্যমান। কিন্তু জেন্ডারের ক্ষেত্রে তা বলা যায় না। কারণ জৈবিকতার অতিরিক্ত একটি পৌরুষ বা নারীত্ব সমন্বিত ‘জেন্ডার’ হল এমন কিছু যার সমাজ, কাল প্রভৃতির ক্ষেত্রে কোনো একটা নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড নেই।
ষষ্ঠত, ‘লিঙ্গা’ সম্পর্কিত ধারণাটি স্থির, অর্থাৎ তা পরিবর্তনশীল নয়। কিন্তু মারিয়া মিস-এর মতানুসারে ইতিহাস ও সমাজভেদে ‘জেন্ডার’ একটি পরিবর্তনশীল ধারণা।
পরিশেষে, ‘লিঙ্গা’ সম্পর্কিত ধারণার সঙ্গে নারী ও পুরুষের দৈহিক পার্থক্যটি উল্লেখযোগ্য। এই দোহক পার্থক্য চিরন্তন। লিঙ্গগত এই পার্থক্যের স্বাভাবিক এবং অকৃত্তিম। অপরদিকে ‘জেন্ডারের’ ক্ষেত্রে একথা বলা যায় না। কারণ ‘জেন্ডার’-এর ধারণা অনুসারে নারী ও পুরুষের মধ্যে পার্থক্যসমূহ কৃত্রিম বলে তা স্বাভাবিক ও শাশ্বত নয়।







