‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ গল্প অবলম্বনে গল্পকথকের চরিত্রটির পরিচয় দাও।
আদ্যোপান্ত ভবিষ্যৎকালের ক্রিয়াপদে গঠিত প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ গল্পের তির্যকতা রোমান্টিক ভাষণের স্নিগ্ধ প্রলেপে অনবদ্য। ভাববাচ্যে লেখা হলেও গল্পটিতে আত্মকথনের আভাস আছে। তাই গল্পকথকের চরিত্রটিকেই নায়ক চরিত্র বলে মনে হয়। যদিও গল্পকথক কোনো নির্দিষ্ট চরিত্র নয়, বরং পাঠককেই গল্পের নায়কের জায়গায় অভিষিক্ত করেছেন।
গল্পকথকের মনের মধ্যে নাগরিক জীবনের একমুখীনতার বাইরে অন্য এক জীবনের গভীরে প্রবেশ করার প্রবল রোমান্টিক ইচ্ছা দেখা যায়। সে কারণেই দু-একদিনের অবসর কাটাতে তেলেনাপোতার উদ্দেশ্যে সবান্ধব যাত্রা। নায়কের মাছ ধরার উদ্দেশ্যটি তার আলস্যপ্রিয় মনটিকে প্রকাশ করে। কিন্তু তেলেনাপোতা ভ্রমণের মধ্যে যে তাদের কোনো আত্মিক তাগিদ ছিল-এমনটি নয়। বাংলার গ্রাম্যজীবনকে উপভোগ করার কোনো বাসনাই তাদের কথাবার্তায় ধরা পড়ে না।
যাত্রার শুরু ভিড়ে ঠাসা বাসে এবং তারপর গোরুর গাড়িতে। এই যাত্রাপথ যন্ত্রণাময়-যা কখনও ভোলার নয়। তেলেনাপোতার অন্ধকারের নীরবতা, কৃত্রিম আলোহীনতা, মশার উপদ্রব-সকলকেই অস্বস্তিতে ফেলে। তবুও সেই জীর্ণ অট্টালিকার অন্ধকার ঘরে দমবন্ধ করা পরিবেশে ছাদে এসে গল্পকথকের মনে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি জন্মায়।
সেই রোমাঞ্চকতাকে রহস্যময়তায় পৌঁছে দেয় বাড়ির জানালায় এক নারীর ছায়ামূর্তি। অন্ধকার সরিয়ে আলো ফুটতেই রাত্রের রহস্যময়তা সরে গিয়ে গল্পকথকের সামনে বাস্তব রূপটি ফুটে ওঠে। যামিনীর মাকে কথা দিলেও গল্পকথকের আর ফিরে যাওয়া হয়ে ওঠে না তেলেনাপোতায়। যামিনীর কাছে ফিরে যেতে না পারার অপরাধবোধে বিদ্ধ হতে থাকা গল্পকথক আবার যান্ত্রিকতার জীবনে প্রবেশ করে।









