একদিন তেলেনাপোতা আপনিও আবিষ্কার করতে পারেন – কার এই উক্তি? এই তেলেনাপোতা আবিষ্কারের তাৎপর্য কী?
‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ গল্পে প্রেমেন্দ্র মিত্র সবসময়েই চেষ্টা করেছেন ঘটনার প্রত্যক্ষতাকে এড়িয়ে গিয়ে একটি পরোক্ষ ভূমিকা সৃষ্টি করতে, যার মাধ্যমে গল্পের আবেদন আরও তীব্রতর হতে পারে, সংবেদন আরও গভীর হতে পারে। তাই এই গল্পের আলোচ্য অংশটির বক্তা গল্পলেখক বলে মনে হতে পারে। গল্পকথক, যিনি নায়ক, তিনিই আবার গল্পকথনের কৌশলে গল্পপাঠকও। তাই উদ্ধৃত অংশে ‘আপনি’ হলেন গল্পের নায়ক অথবা স্বয়ং পাঠক।
ভৌগোলিক পরিচয়ে তেলেনাপোতা গ্রামকে খুঁজতে যাওয়া বৃথা। আসলে বাস্তবে তেলেনাপোতা বলে কোনো গ্রাম নেই। এই তেলেনাপোতা নির্বিশেষরূপে গ্রাম বাংলার রিক্তরূপটিকে অনাবৃত করেছে। সুতরাং, এটিও একটি আবিষ্কার।
তেলেনাপোতা যাওয়ার উপলক্ষ্য আসলে রোমান্টিক নায়কের আত্ম আবিষ্কার। যা অন্য যে-কোনো তাৎপর্যকে পিছনে ফেলে দেয়। নাগরিক সভ্যতার কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে বাংলার গ্রামের দিকে যাত্রার পিছনে যে ভালোলাগা কাজ করে-তার মধ্যে কোনো আন্তরিকতা থাকে না, যা শেষ পর্যন্ত আবিষ্কার করতে পারেন নায়ক।
যাত্রাপথের দীর্ঘতা, যন্ত্রণা, বিজলিহীন গ্রামের অন্ধকার, মশার উপদ্রব, পানাপুকুরের পচা গন্ধ-নায়কের রোমান্টিকতায় চরম আঘাত হানে। কিন্তু কেবল মধ্যবিত্ত নাগরিকের রোমান্স পিপাসার শূন্যগর্ভতাকেই আবিষ্কার করা নয়, প্রেমেন্দ্র মিত্র যেন আরও এক গভীরে আত্ম আবিষ্কারের দিকেই আমাদের নিয়ে যান।
নাগরিক যান্ত্রিকতায় অভ্যস্ত নায়ক তেলেনাপোতায় আবিষ্কার করে মানবিকতার এক গোপন অস্তিত্ব। তাই যামিনীর মাকে আশ্বাস দিয়ে নায়ক নিজেকে মানবতার মহান তীর্থবাসী বলে আত্মসুখ অনুভব করেছিলেন। তাই এই তেলেনাপোতা আবিষ্কার যেন, আমাদের গহন মনের তলদেশের ছলনাময় রহস্যকেই আবিষ্কার করা।









