তেলেনাপোতা আবিষ্কারের জন্য আপনার দুটি বন্ধুর একজন ক্ষণ পানরসিক ও অপরজন নিদ্রাবিলাসী কুম্ভকর্ণের দোসর হওয়া দরকার

Published On: October 7, 2024
তেলেনাপোতা আবিষ্কারের জন্য আপনার দুটি বন্ধুর একজন ক্ষণ পানরসিক ও অপরজন নিদ্রাবিলাসী কুম্ভকর্ণের দোসর হওয়া দরকার

তেলেনাপোতা আবিষ্কারের জন্য আপনার দুটি বন্ধুর একজন ক্ষণ পানরসিক ও অপরজন নিদ্রাবিলাসী কুম্ভকর্ণের দোসর হওয়া দরকার।”-এই দুই বন্ধুর চরিত্র উল্লেখ করে বুঝিয়ে দাও কেন মিতাদের তেলেনাপোতা আবিষ্কারের জন্য দরকার?
 
মূল চরিত্রকে প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে প্রেমেন্দ্র মিত্র তাঁর ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ গল্পে নায়ক চরিত্রের পাশাপাশি দুটি পার্শ্ব চরিত্রের উপস্থিতি ঘটিয়েছেন। তাই গল্পে নায়কের পানরসিক ও নিদ্রাবিলাসী দুই বন্ধুর ভূমিকাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

তেলেনাপোতাগামী তিন বন্ধুর আচার-আচরণের মধ্য দিয়ে একটি বিশেষ শ্রেণিগত পরিচয় ফুটে ওঠে। মহানগরীর শিক্ষিত স্বার্থপর সুবিধাবাদীর পরিচয়ই ব্যক্ত হয় তাদের চরিত্রের মধ্য দিয়ে। গল্পকথকের এক বন্ধুর নাম জানা যায় না-তবে ওইরূপ বদ্ধ ঘরে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ায় তাকে নিদ্রাবিলাসী ছাড়া কিছু বলা যায় না। অপরজন মণি, যে দূরসম্পর্কের আত্মীয় যামিনীদের, অতিরিক্ত পানরসিক। তেলেনাপোতা গ্রামটি মণির কাছে অপরিচিত নয়।

 
মদ্যপান ও নিদ্রা এই দুটির অসাধারণ গুণে নায়কের বন্ধু দুটির স্বাভাবিক চেতনা আচ্ছন্ন। তাই তেলেনাপোতা গ্রাম সম্পর্কে উভয়েই উদাসীন। নতুন কোনো অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের আগ্রহও তাদের নেই। সমাজ ও জীবন সম্পর্কে তারা অত্যন্ত অনাগ্রহী। তবে মণি চরিত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তেলেনাপোতার সঙ্গে অন্য দুজনের সংযোগ ঘটেছে তার মধ্য দিয়েই। তেলেনাপোতার যে মৌলিকত্ব, যে রহস্য তা যেন দুই বন্ধুর কাছে ধরা পড়ে না।
 
তবে উভয়ের সঙ্গেই নায়কের তেলেনাপোতা অভিযান সার্থক হয়ে উঠেছে। পানদোষ ও কুম্ভকর্ণের নিদ্রা না থাকলে এত সহজে নায়কের পক্ষে তেলেনাপোতা আবিষ্কার সম্ভব হত না। তাই এই দুই দোসর পার্শ্ব চরিত্র হয়েও গল্পে একটা আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
 

Leave a Comment