নীচের জলা থেকে একটা ক্রুর কুণ্ডলিত জলীয় অভিশাপ ধীরে ধীরে অদৃশ্য ফণা তুলে উঠে আসছে। বক্তব্যটির মধ্যে যে ব্যঞ্জনা লুকিয়ে আছে তা গল্প অবলম্বনে আলোচনা করো

Published On: November 1, 2024

নীচের জলা থেকে একটা ক্রুর কুণ্ডলিত জলীয় অভিশাপ ধীরে ধীরে অদৃশ্য ফণা তুলে উঠে আসছে। বক্তব্যটির মধ্যে যে ব্যঞ্জনা লুকিয়ে আছে তা গল্প অবলম্বনে আলোচনা করো

একদিকে সমাজের নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষজনের ছবি এবং অপরদিকে তথাকথিত সভ্যতার আড়ালে থেকে যাওয়া গ্রামবাংলার নিঃস্ব রূপটিকে প্রেমেন্দ্র মিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর “তেলেনাপোতা আবিষ্কার” গল্পে। তেলেনাপোতা একটি গণ্ডগ্রাম। সমস্ত গতি যেন রুদ্ধ হয়ে গেছে এই গ্রামে।

 
যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম বাস-সেই বাসও তেলেনাপোতার মতো গণ্ডগ্রামে অনিয়মিত। বাসে চেপে কথক যখন সেই গ্রামের পথে পৌঁছান-তখনই শুরু হয় প্রকৃতিতে আলো-আঁধারির খেলা। সেই গ্রাম্য প্রকৃতির রূপ বর্ণনা করতে লেখক এরূপ অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন।

প্রায় জনমানবশূন্য গ্রাম অবহেলার অন্ধকারে ঢাকা পড়ে থাকে চির-উপেক্ষিতের দলে। ভারতীয় সমাজ ও সভ্যতার প্রাণ যে গ্রাম, তা থাকে চিরবঞ্চিত, তেলেনাপোতা যার প্রমাণ। নিষ্প্রাণতা সেখানে এতই প্রকট যে ঘরমুখী পাখিদের আওয়াজও যেন থমকে গেছে।

 
সেখানে তৈরি হয়েছে এক দমবন্ধকরা পরিস্থিতি- “স্যাঁতসেঁতে ভিজে ভ্যাপসা আবহাওয়া”-যেন ভাদ্রের গুমোট ভাব ওই অসহায়তাকে প্রতীকায়িত করেছে। এরপরেই গল্পকার এরূপ মন্তব্য করেন। ঠিক যেভাবে সকলের আড়ালে সাপ অতর্কিতে আক্রমণ করে-তেমনভাবেই সভ্যতারূপী সর্পের আড়ালে ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায় গ্রাম। তেলেনাপোতা সেরকমই অকালে ঝরে যাওয়া গ্রাম বাংলার অসহায় রূপ।

Leave a Comment