প্রেমেন্দ্র মিত্র বিরচিত ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ গল্পে কলসি করে জল নিয়ে যাওয়ার সময় যামিনী মৎস্যশিকারি ব্যক্তির উদ্দেশে এরূপ উক্তি করে।
তেলেনাপোতা নামক গ্রামের একটি শ্যাওলা ঢাকা ভাঙা ঘাটের ধারে বসে গুঁড়ি-পানায় ঢাকা সবুজ জলের মধ্যে বঁড়শি ডুবিয়ে যখন দীর্ঘ সময় বসে থাকবেন-তখন মাছ নয়; একটি মাছরাঙা পাখি ক্ষণে ক্ষণে আপনাকে যেন উপহাস করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বে।
সার্থক শিকারের উল্লাসে আবার বাঁশের ডগায় ফিরে গিয়ে দুর্বোধ্য ভাষায় চিৎকার করে সে আপনাকে বিদ্রুপ করবে। দুটি ফড়িং পাল্লা দিয়ে কাচের মতো পাখা নেড়ে বারবার আপনার ছিপের ফাতনাটির উপর বসবার চেষ্টা করে আপনাকে – আনমনা করবে।
এই সময়েই হঠাৎ জলের শব্দে আপনার চমক ভাঙবে। জলের শব্দে । ঘাড় ঘুরিয়ে দেখবেন-একটি মেয়ে পেতলের একটি ঘড়ায় পুকুরের পানা সরিয়ে জল তোলার সময়ে আড়ষ্টতাহীন কৌতূহলী দৃষ্টি নিয়ে সোজাসুজি আপনার ছিপের ফাতনার দিকে তাকাবে। কলসি নিয়ে চলে যাওয়ার সময় মেয়েটি এরূপ উক্তি করে। শান্ত মধুর ও গম্ভীর স্বর শুনে দারুণ বিহ্বল হয়ে ছিপে টান দিতে ভুলে যাবেন।
ছিপ তুলে দেখবেন বঁড়শিতে টোপ দেখতে পাবেন না। অপ্রস্তুতভাবে মেয়েটির দিকে তাকাতেই দেখবেন-একটু দীপ্ত হাসির আভাস দিয়ে মেয়েটি শান্ত ধীর পদে ঘাট ত্যাগ করছে। পুকুরঘাটের নির্জনতা আর ভঙ্গ হবে না। মাছরাঙা পাখিটি লজ্জা দেওয়ার নিষ্ফল চেষ্টা ত্যাগ করে অনেক আগেই উড়ে গেছে। তখন ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি আপনার স্বপ্ন বলে মনে হবে।