সমকালীন গ্রিক নগররাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে অ্যারিস্টটলের রাষ্ট্রদর্শন গড়ে উঠলেও তা ছিল সর্বকালীন ও শাশ্বত। বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে নগর ও নাগরিক, ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়গুলিকে তিনি বিচারবিশ্লেষণ করে নিজ সিদ্ধান্তকে উপস্থাপিত করেছেন- যা সত্যিই প্রশংসনীয়।
এই বিশিষ্ট রাষ্ট্রচিন্তাবিদই রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন বিষয় হিসেবে প্রথম প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এমনকি রাজনৈতিক বিষয়গুলি অনুশীলনের ক্ষেত্রে তিনিই সর্বপ্রথম বাস্তববাদী ও বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন। সক্রেটিসের মতোই অ্যারিস্টটলও এক কৌতূহলী দৃষ্টিভঙ্গি ও জিজ্ঞাসু মন নিয়ে বিভিন্ন বিষয় বিচারবিবেচনা করেছেন। আরোহী পদ্ধতির তিনটি পর্যায় অর্থাৎ অনুমান, পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত অ্যারিস্টটলের গবেষণায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তাছাড়া তাঁর সকল সিদ্ধান্তগুলিই ছিল পরীক্ষামূলক।
অ্যারিস্টটল রাষ্ট্রের উৎপত্তি ও প্রকৃতি, সরকারের বিভিন্ন রূপ, ন্যায়বিচার, পরিবার ও সম্পত্তি-সহ যে নানান ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা রাষ্ট্রচিন্তার পরবর্তী ধারাকে যথেষ্ট পুষ্ট করেছে। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থা কীভাবে শক্তিশালী ও সফল হতে পারে, নাগরিকদের সুখ ও সুযোগসুবিধা কীভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব এবং নগর পরিকল্পনার সার্থক রূপদান বিষয়ক অ্যারিস্টটলের প্রস্তাবগুলি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
The Politics গ্রন্থে অ্যারিস্টটল রাষ্ট্রদর্শনের যেসকল বিষয়গুলির অবতারণা করেছেন আধুনিক কালে রাজনীতির ছাত্র ও গবেষকমহলে তা যথেষ্ট সমাদৃত হয়েছে। রাষ্ট্রনীতির মূলসূত্রগুলির অনুসন্ধান ও রাজনৈতিক সমস্যাবলির সমাধানের জন্য এই গ্রন্থটি পাঠ করা একান্ত প্রয়োজন। অ্যারিস্টটলের রাষ্ট্রদর্শন বিশ্বের বেশিরভাগ রাষ্ট্রবিজ্ঞানীকে নানাভাবে প্রভাবিত করেছে।
সামগ্রিকভাবে আলোচনার শেষে একথা বলাই যায় যে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক অ্যারিস্টটলের বাস্তবধর্মিতা ও বিজ্ঞানসম্মত রাষ্ট্রদর্শন রাষ্ট্রচিন্তার জগতে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তাই যথার্থই আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার কাণ্ডারি রূপে অ্যারিস্টটলকে অভিহিত করা যেতে পারে।








